স্বামীর নির্যাতন ও নিখোঁজের অভিযোগে শিশু কন্যাকে নিয়ে অসহায় চাঁদনী আক্তারের আর্তনাদ
সোহানুর রহমান সোহান নিজেস্ব প্রতিবেদক:- ঝড় যেমন হঠাৎ করে একটি ঘর ভেঙে দেয়, তেমনি কিছু সম্পর্কও নীরবে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিনের অবহেলা, নির্যাতন আর প্রতারণার ভারে। ভৈরবের চাঁদনী আক্তারের জীবনও যেন তেমনই এক ভাঙনের গল্প—যেখানে ভালোবাসার শুরু আজ পরিণত হয়েছে ভয়, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের দুর্জয় মোড় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের জীবনের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী চাঁদনী আক্তার (২৮)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, প্রায় ৯ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী রাজু আহম্মেদের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে রয়েছে ২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী রাজু আহম্মেদ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন।
চাঁদনী অভিযোগ করেন, একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পূর্বে থানায় অভিযোগ দিলেও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং প্রতিবারই স্বামী সংশোধনের আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজু আহম্মেদ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। সেই সময় থেকে তিনি ও তার সন্তান সম্পূর্ণভাবে ভরণপোষণহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ফোনে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এছাড়া তিনি অন্যত্র পরনারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন চাঁদনী।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদনী আক্তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এখন আমার ছোট সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা। কোথাও কোনো বিচার পাচ্ছি না। একজন মা হিসেবে আমার একমাত্র চাওয়া—আমার সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং ন্যায্য বিচার।”
তিনি প্রশাসনের কাছে তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক সহিংসতা ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যাগুলো দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যা শুধু একটি পরিবার নয়—সমগ্র সমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন।
চাঁদনী আক্তারের এই আর্তনাদ এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়—এটি সমাজের বিবেকের কাছেও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: আর কত এমন গল্প নীরবে চাপা পড়ে থাকবে?