তেরখাদায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দোকান দখলের অভিযোগ
আল মাহফুজ-শাওন, খুলনা :
খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ৮টি দোকান দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা খুলনা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বোরহান তরফদারের পিতা ময়েন উদ্দিন তরফদার ১৯৬৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য ইছামতি মৌজার আরএস ৩নং খতিয়ানের ২১৭২/২৩০৬ দাগের ৩৩ শতক জমি বিনামূল্যে দান করেন। তবে একই দাগের বাকি ১১ শতক জমি, যা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পাকা রাস্তার পশ্চিমে চিত্রা নদীর পাশে অবস্থিত, দীর্ঘদিন ধরে তরফদার পরিবার ভোগদখল করে আসছিল।
পরবর্তীতে নদীভাঙনে জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হলে, ওয়ারিশরা নিজেদের অর্থায়নে পাইলিং করে ভাঙন রোধ করেন এবং সেখানে ৮টি দোকান নির্মাণ করেন। এসব দোকানে দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম ক্ষমতায় থাকাকালে তার লোকজন নিয়ে দোকানগুলো ভাঙচুর ও লুটপাট করেন এবং জায়গাটি দখল করে সেখানে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে নিজের নামে ভাড়া দিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সমাজসেবক এস. এম. এমদাদুল হক বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের জন্য জমি দানের পর বাকি অংশে তরফদার পরিবার দোকান নির্মাণ করে। কিন্তু পরে চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম জোর করে দোকান ভেঙে জায়গা দখল করেন।”
ভুক্তভোগী ইয়াসমিন বেগম অভিযোগ করেন, “অত্যন্ত কষ্ট করে ধারদেনা করে দোকান করেছি। দোকান ভাঙার সময় বাধা দিলে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে মারধর করে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি।”
জমির মালিকের ছেলে বোরহান উদ্দিন বলেন, “আমরা অসহায়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমাদের একমাত্র জীবিকার উৎস ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।”
ছাগলাদাহ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাসুম গাজী জানান, “প্রথমে সেখানে তরফদারদের দোকান ছিল। তারা নিজ খরচে নদীভাঙন রোধ করে দোকান তৈরি করলেও পরে সাবেক চেয়ারম্যান দলবল নিয়ে তা দখল করেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মনজুরুল আলম বলেন, “দ্বীন ইসলাম সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে দোকানগুলো ভেঙেছেন। তিনি একটি জোড়া হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম বলেন, “তৎকালীন ইউএনও’র পরামর্শেই আমি সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেছি। পরে ডিসি আর (ডিসি রেন্ট) নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, “দোকান সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। যেহেতু এটি ভূমি সংক্রান্ত, তাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্ত করে দোকান ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।