ডিউটি না করেও সরকারি বেতন-রেশন নেয়ার অভিযোগ ফায়ার ফাইটার সাদ্দামের বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শহীদ আতাহার হোসেন এর আর্শীবাদে সারা বছর চাকরি না করেও সরকারি বেতন রেশন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার ফাইটার সাদ্দাম হোসেন এর বিরুদ্ধে।বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকায় ফায়ার সার্ভিস এর লোকজন তাকে ক্যাশিয়ার হিসাবেও চিনে থাকেন বলে জানা গেছে।
তথ্য মতে,বাংলাদেশের গৌরবময় একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। প্রতিষ্ঠানটির কিছু অসৎ কর্মকর্তা আর কর্মচারীর কারনে প্রশ্নের সম্মুখীন প্রতিষ্ঠানটি। তাদেরই একজন ফায়ার ফাইটার মোঃ সাদ্দাম হোসেন। দুর্নীতিতে বিভাগের সেরা বলে, অভিযোগে উঠে এসেছে তার নাম। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার মোঃ সাদ্দাম হোসেন তিনি কিছুদিন পেষনে সচিবালয়ে ডিউটি করার সুবাদে কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে পরিচিতি লাভ করেন পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির কারনে তার পেষনের আদেশ বাতিল করে তার নিজ কর্মস্থলে প্রেরণ করেন, তারপরও তিনি তার সাময়িক আইডি কার্ড সচিবালয়ে জমা না দিয়ে তার কাছে রেখে দেন যাতে করে তিনি যেকোন সময় সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারেন এবং অভিযোগ রয়েছে তিনি এখনও পরিচয় দেন সচিবালয়ে চাকরি করেন বলে। কিন্তু তিনি সচিবালয় থেকে আসার পর একজন ফায়ার ফাইটার এর স্বাভাবিক যে কাজ কর্ম বা দায়িত্ব পালন করতে হয় তিনি তা সঠিক ভাবে পালন করেন না, সেই কারনে স্টাফদের সাথে এবং অফিসারের সাথে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়।অভিযোগ রয়েছে তিনি একবার সচিবের কথা বলে বাহিরে যান আর সারাদিন অফিসে আসেন না ডিউটি পাহাড়া কিছুই করেন না আরেকবার পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এর কথা বলে বাহিরে যান সারাদিন আর অফিসে ডিউটি পাহাড়ায় আসেন না এমন ভাবে চলতে থাকে প্রতিদিন।উর্ধতন অফিসাররা তাকে কিছু বলতে গেলে এই অফিসার কে বদলি করে দেওয়ার হুমকি এবং সচিবালয় থেকে ফোন করানোর পরে আর ভয়ে উর্ধতন অফিসাররা আর তাকে কিছু বলেন না। এইভাবেই চলে মাসের পর মাস।অভিযোগ রয়েছে তিনি গত ৫ বছরে একটি অগ্নিকান্ড নিবারণের ঘটনায় অংশ গ্রহন করেন নাই। যেখানে একজন ফায়ার ফাইটার সর্বোচ্চ তিনটি আগুন নিবারণের কার্যক্রমে অংশ গ্রহন না করলে চাকরি থাকার কথা না সেখানে তিনি গত ৫ বছরে শত শত আগুন নিবারনের কার্যক্রমে অংশ গ্রহন না করেও বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন।জানা যায় উর্ধতন কর্মকর্তারা অন্য স্টাফদের ভুল ত্রুটি ধরতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন যে সাদ্দাম কে কিছু বলতে পারেন না আমাদের কে দুর্বল পাইছেন।তিনি কিভাবে কোন আগুনে অংশ গ্রহন না করে চাকরিতে আছেন এবং বেতন রেশন পাচ্ছেন তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফায়ার ফাইটার বলেন,যখন হাজারীবাগের অফিসার নিজের চাকরি বাচানোর জন্য তার নামে অকারেন্স করা শুরু করলেন এবং উপরের স্যারদের কাছে মৌখিক ভাবে অবগত করানো শুরু করলেন তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, এই খানে চাকরি করলে তার চাকরি আর থাকবেনা তখন ডিডি এডমিনকে টাকা দিয়ে লালবাগ সংযুক্ত নিয়ে চলে আসেন, এখানেও তিনি সারাদিন ডিউটি পাহাড়া না করে সচিবালয় গিয়ে পড়ে থাকেন, অফিসার ও তাকে ভয়ে কিছু বলেনা বললে ডিডি এডমিন ও সচিব স্যারের ভয় দেখায় পরবর্তী সময়ে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার তার নামে রিপোর্ট দিলে ডিজি স্যার তাকে নেত্রকোনা বদলি করেন। তিনি নেত্রকোনা যোগদান করার সাথে সাথে পরিচালক প্রশাসন তার ব্যাক্তিগত কাজের সুবিধার্থে টংগী ফায়ার স্টেশনে নিয়ে আসেন এখানে ও সমস্যা হয়। তখন আবার পরিচালক প্রশাসন তার সুবিধার্থে তাকে নিয়ে আসেন পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনে। এখানেও তিনি ৬ মাসে একদিন অফিসে গিয়ে পা পর্যন্ত রাখে নাই বলে অভিযোগ রয়েছে।তিনি আরো জানান,ফায়ার ফাইটার সাদ্দাম বেতন রেশন সবই পাচ্ছে পরিচালক প্রশাসন এর নির্দেশে এই বিষয়ে স্টেশনের কর্মকর্তাকে জিঙ্গেস করলে তিনি বলেন,আমার কিছু করার নাই পরিচালক প্রশাসন স্যার বলে দিসেন কিন্তু আমার যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য আমি রোল কলে সে যে থাকেনা তার ভিডিও করে রাখি এবং সে যে ডিউটি করে না তার প্রমান সিসিটিভি ফুটেজ এবং আমার অফিসের সবাই সাক্ষি আছে। একজন কর্মচারী সারা বছর চাকরি না করে কেমনে বেতন রেশন পায় আমার মাথায় আসেনা।এ বিষয় গুলি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। পরিচালক প্রশাসন ও সচিবালয়ের স্যারদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে সারাদেশের ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ বানিজ্য, বদলী বানিজ্য, ঘুষ বানিজ্য ও দুর্নীতি সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের সদস্য। এ অবস্থায় হাজারীবাগ, লালবাগ ও টংগী, পলাশী ব্যারাক ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ফায়ার ফাইটার সাদ্দামের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।