গোপালগঞ্জে তেল সংকট: মহাসড়ক অবরোধে যানজট, ভোগান্তি চরমে
মো: আল-মাহফুজ শাওন
**গোপালগঞ্জ, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল):** তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করায় গোপালগঞ্জে ব্যাপক যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, তেল সংকটের কারণে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার অন্তত সাতটি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গাড়িচালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে মান্দারতলা এলাকায় নিগি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং অর্ধশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।
অবরোধকারীরা অভিযোগ করেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে এক ঘণ্টা পর সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেয়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এবং ফারদিন খান প্রিন্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করেন। জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে, নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিজুর রহমান লতিফ অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত তেল বিতরণ করতে গিয়ে কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং অনেকে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনের কিছু প্রভাবের কারণে একপর্যায়ে তেল বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।