১৬ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ শেষের পথে,বালু স্তুপ করে রাখায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
আল-আমিন হাসান (নিকলী) কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা থেকে কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী পর্যন্ত সড়কের পুনর্নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে নির্মাণকাজের জন্য সড়কের ওপর বালু রাখায় এবং সড়ক আলোকায়ন ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় রাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নিকলী থেকে কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এ অবস্থায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে কিছু অংশে পাটাতনসহ কয়েকটি কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব কাজের জন্য সড়কের ওপর বালু রাখা হয়েছে। এতে সড়কের একটি অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে।
দিনের বেলায় বালুর স্তূপ সহজে দেখা গেলেও রাতে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়ক নির্মাণের সময় স্থাপন করা সড়কবাতিগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে অথবা চুরি হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে রাতে পর্যাপ্ত আলো থাকে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রী রাখা অংশে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দূর থেকে বালুর স্তূপ বা সড়কের প্রতিবন্ধকতা সহজে দেখা যায় না। এর পাশাপাশি এসব স্থানে দৃশ্যমান সতর্কতামূলক সংকেত বা নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে সড়কের ওপর বা পাশে নির্মাণসামগ্রী রাখা প্রয়োজন হতে পারে। তবে রাতে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে সেখানে পর্যাপ্ত সড়কবাতি, সতর্কতামূলক সাইন ও দৃশ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিশেষ করে আগে স্থাপন করা সড়কবাতিগুলোর অধিকাংশ নষ্ট বা চুরি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
নিকলী ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দারা এ সড়ক দিয়ে কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনও নিয়মিত সড়কটি ব্যবহার করে। ফলে রাতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে অতিবৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছিল। কোথাও কোথাও পিচ ও কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ে। পরে সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, অবশিষ্ট নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি সড়কের চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়কবাতিগুলো পুনঃস্থাপন ও সচল করা হবে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী রাখার স্থানে পর্যাপ্ত আলো এবং সতর্কতামূলক সংকেতের ব্যবস্থা করে রাতের নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সড়কটির নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মো. তাজুল ইসলামের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।