ভৈরবে শেষ মূহুর্তে গবাদি পশু পরির্চয়ায় ব্যস্ত খামারিরা, ২৮ হাজার গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত
সোহানুর রহমান সোহান নিজেস্ব প্রতিবেদক:
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এ উপজেলার হাজার হাজার খামারির। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কুরবানির পশুর বাড়তি পরিচর্যা। তবে এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। জ্বালানি তেল ও গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পশুর উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও, ক্রেতাদের দারুণ সাড়ায় খামারিদের মুখে চওড়া হাসি।
খামারিদের প্রত্যাশা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভিনদেশি গরু না আসলে নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য পাবেন তারা। এবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নে ২ হাজার ১ শ ১৭ টি খামারের এখন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা শেষ মূহুর্তের পরির্চযায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ; তবে গো -খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে লাভের মুখ দেখা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে খামারিরা।
স্থানীয় উপজেলার প্রাণি সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে এবার ভৈরব উপজেলায় মোট - ২৮ হাজার ৫শ ৩৭ টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুুত রয়েছেন। এরমধ্যে - গরু ১৭ হাজার ২২টি, ছাগল ১১ হাজার ১শ ১৪ টি,ভেড়া ২শ ১৯ টি,মহিষ ১শ ৫২ টি দোম্বা ৩০টি যা স্থানীয় ১৬ হাজার পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার উদ্বৃত্ত। ২৮ হাজারেরও বেশি পশু গুলো এই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা যাবে। তবে পশু পালনে অতিরিক্ত ব্যায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারিরা। স্থানীয় খামারি ভৈরব পৌর শহরের কালীপুরে এ.আর. এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী গোলাম অতুল জানান, খড় খইল ও ভূষি -সহ সব ধরণের পশু খাদ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। পশু লালন -পালন করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে যদি কোরবানির হাটে পশুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়া যায়।
তবে লোকসান গুণতে হবে। একই সুর শোনা গেল ভৈরবে স্থানীয় আরেক খামারি ভৈরব পৌর শহরের নিউ টাউন এলাকার অবস্থিত স্কাইভিউ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদুল ইসলাম সিয়াম বলেন, তারা দেশীয় পদ্ধতিতে খড়,খৈল ,ভূষি ও কুড়া, সাইলেজ খাবার খাইয়ে প্রাকতি পদ্ধতিতে গরু মােটা তাজা করছেন তারা কােন প্রকার রাসায়নিক ট্যাবলেট খাওয়াছেন না।
এ দিকে এ.আর. এগ্রো ফার্মে গরু কিনতে আসা ইয়াসিন আরাফাত তানভীর জানান, সুদূর আমিরিকা প্রবাস থেকে তার বড় ভাই টাকা পাঠিয়েছেন যদি দামে -দরে মিলে তা হলে তিনি এখান থেকে দুইটি গরু ক্রয় করবে। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে তিনি কুরবানি দিবেন বলে জানান।
এই বিষয়ে, আমাদের নিজেস্ব প্রতিবেদক কে -কে ভৈরব উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মোঃ নাহিদুল ইসলাম বলেন আমরা খামারিদের প্রয়োজনীয় সকল ধরণের পরামর্শ ও কারিগরি সুযোগ -সুবিধা প্রদান করছি। আশা করছি। কোরবানিতে খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্য মূল্যে পাবেন এবং লাভবান হবেন। হাটে স্থানীয় পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকল এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে, এই এলাকার খামারিরা আগামীতে পশু পালনে আরো আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে খামারিরা যাতে কোনো প্রকার পাম ট্যাবলেট স্টরয়েড ও হরমোন ব্যবহার না করতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক মাঠে ৩ টি মেডিক্যাল টিম এবং স্থানীয় ও ভ্রম্যমাণ হাটের জন্য আলাদা মেডিক্যাল টিম ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া পশুর কোনো প্রকার রোগ আক্রান্ত আছে কিনা সেই দিকেও তারা তদারকি করছেন বলে জানান তিনি।
এছাড়াও ভৈরব প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সাদ্দাম হোসেন জানান,প্রাণী সম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিটি খামারে নিয়মিতভাবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ তদারকি করা হচ্ছে । তাছাড়া খামারিরা ও দেশীয় পদ্বতিতে পশু মােটা তাজা করেছেন। এবার ভৈরব-সহ সারাদেশে কোরবানীর গরুর গোশত নিরাপদ ও ভেজাল মুক্ত থাকবে এমনটায় সবার প্রত্যাশা।